Logo
শিরোনাম
ঈদগাঁওতে ইক্বরা তাহসীনুল কুরআন মাদ্রাসায় পুরুস্কার বিতরন অনুষ্ঠান সম্পন্ন সহকারী কমিশনার বরাবরে আবেদন……. ঈদগাঁওতে সরকারী খাস জমিতে গণ-শৌচাগার নির্মানের দাবী নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন  সভাপতি আমিন সম্পাদক কাজল ঈদগাহ্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত এপেক্স বাংলাদেশ মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছে: সাচিং প্রু জেরী ঈদগাঁওতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বিলাইছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন রোয়াংছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে তঞ্চঙ্গ্যা জাতির বিষু মেলা ঘিলা খেলা  সম্পন্ন ঈদগাঁওতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবীতে মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন চৌফলদন্ডী রাখাইন পল্লীতে জলকেলির আনন্দে ভাসবে নারী-পুরুষ, প্রস্ততি চলছে

বান্দরবানে ডেলিভারি করতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু

আকাশ মারমা মংসিং

বান্দরবানে গর্ভবর্তী পিংকি বেগম(১৯) নামে এক মহিলাকে সিজারিয়ান ডেলিভারি করতে গিয়ে আঘাত লেগে এক নবজাতকের শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগে। সেসময় বাচ্চাটি মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন শিশুটির পরিবার।

বুধবার রাতে সোয়া ১০ টা দিকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল মঙ্গলবার ডেলিভারি হওয়ার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল ভর্তি হন ওই নারী।

নবজাতকের মৃত্যু ব্যাপারে নিশ্চিত করেন বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দী।

তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকের অবহেলায় নয় শিশুটি মায়ের পেটেই মৃত ছিল। নবজাতকের মাকে সুস্থ রাখতে সিজারিয়ান ডেলিভারি করতে গিয়ে একটু আঘাত লাগে। এতে পরিবার হত্যা বলে দাবী করছেন। তারপরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের দাবি, শিশুটি মায়ের গর্ভেই থেকেই মৃত ছিল। ডেলিভারি হওয়ার পর শিশুটি মৃত্যু অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে দু প’ক্ষে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তৈরী হয় ধূম্রজাল।

জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একটি টিম ঘটনাটি ব্যাপারে তদন্ত করা হবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বান্দরবান পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হাফেজঘোনা এলাকার বসবাসা করেন পিঙ্কি আক্তার। প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্রমাগত ব্যাথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসক অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরিবার ও চিকিৎসক উভয়ের সম্মতিতে অপারেশনের নেতৃত্ব দেন ডা. চিংম্রা। সিনারিয়ান ডেলিভারি করার সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লেগে সেসময় শিশুটি মৃত্যু হয়। তবে নবজাতকের মা সুস্থ আছেন।

খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নবজাতকের পরিবার ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে জড়ো হয়। খবর পেয়ে সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, সিভিল সার্জন নিজার রঞ্জিত নন্দী, সদর থানার ওসি রফিকুল আলমসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নবজাতকের বাবা রাজমিস্ত্রী মাহাবুব আলম বলেন, চিকিৎসকের অসতর্কতায় আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা। মায়ের গর্ভে শিশুটি মৃত ছিল সেটি অপারেশনের আগে তো কথাটি জানায়নি চিকিৎসক । আমি সন্তান হত্যার বিচার চাই।

নবজাতকের মা পিঙ্কি আক্তার বলেন, আমার গর্ভে সন্তান সুস্থ ছিল। ডাক্তারের অসতর্কতায় কারণে মাথায় আঘাত পেয়ে আমার সন্তান মারা গেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিল কামরুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, গর্ভকালীন শিশুটি মৃত ব্যাপারে চিকিৎসকরা পরিবারকে আগে কেন জানায়নি । সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হোক।

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার)(আর এম ও) জিয়াউল হায়দার ও মেডিকেল অফিসার মো. সাজ্জাতুল আমিন বলেন, বাচ্চাটা মায়ের পেটেই মৃত ছিল। স্বাভাবিকের বড় হওয়ায় ফোর্সেস ডেলিভারি যন্ত্র দিয়ে টেনে বের করার সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লেগেছিল। কিন্তু মায়ের ঝুঁকি কমানোর জন্য মৃত বাচ্চা প্রসবের জরুরি ছিল। চিকিৎসকদের কোনো ত্রুটি ও অবহেলা ছিল না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!